April 9, 2026, 6:20 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
মাইকিং শুনে ১৫ কিমি পথ পাড়ি, স্লিপ হাতে— মিলল না ডিজেল খোকসার কৃষক আনছারের আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়: মৃত্যুদণ্ড ২, যাবজ্জীবন ৩—বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড ২৫ জনের ২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ, ২০ মাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘লক্ষাধিক’মামলা–পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন ! নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ/মেনে নিয়েছেন কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীরা, খুশি দোকান কর্মচারীরাও সীমিত সরবরাহের আওতায় দেশের ৭০% ফিলিং স্টেশন, ৩০%-এ পুরোপুরিই বন্ধ বাস্তবতা, প্রতিশ্রুতি/পে-স্কেল বাস্তবায়ন কি প্রলম্বিত হচ্ছে? আরও প্রকট হচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট: শহরে থেমে থেমে, গ্রামে বাড়ছেই লোডশেডিং সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক কুষ্টিয়ায় জ্বালানি সংকট/খুচরা বিক্রেতাদের সুযোগ গ্রহণ, অভিযোগ বাইকারদের বিরুদ্ধেও

মাইকিং শুনে ১৫ কিমি পথ পাড়ি, স্লিপ হাতে— মিলল না ডিজেল খোকসার কৃষক আনছারের

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার খোকসায় কৃষি বিভাগের দেওয়া স্লিপ নিয়েও ডিজেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চাষিরা। নির্ধারিত পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
মঙ্গলবার মাইকিং করে জানানো হয়েছিল, কৃষকদের মধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল বিতরণ করা হবে। সেই ঘোষণা শুনে আশাবাদী হন পদ্মা তীরবর্তী আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোকরাকোল কুঠিপাড়া গ্রামের চাষি আনছার উদ্দিন। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচপাম্প ও পাওয়ার টিলারের জন্য ৩০ লিটার ডিজেলের আশায় তিনি বুধবার ভোরে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করেন।
সকাল ৯টার দিকে নির্ধারিত মক্কা মদিনা ফিলিং স্টেশন-এ পৌঁছালেও এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাকে জানানো হয়—ডিজেল নেই। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত দুপুরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।
আনছার উদ্দিন জানান, তার সাত বিঘা জমিতে বোরো ধান এবং চার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ রয়েছে। প্রতিদিন সেচের জন্য ১০-১১ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে তিনি নিয়মিত তেল পাচ্ছেন না।
একই চিত্র দেখা গেছে অন্য কৃষকদের ক্ষেত্রেও। জানিপুর ইউনিয়নের একতার গ্রামের চাষি আব্দুর রহমান, শোমসপুরের জহুরুল ইসলাম ও হাসিব উদ্দিনসহ শতাধিক কৃষককে তেলের পাত্র হাতে পাম্পে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকে অভিযোগ করেন, পাম্পে ডিজেল মজুত থাকলেও কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে না।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাম্পে দায়িত্বরত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকও পরীক্ষা করেন। তবুও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কৃষকই ডিজেল না পেয়ে ফিরে যান।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা পরিষদের এক সভায় কৃষকদের জন্য রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী মক্কা মদিনা ফিলিং স্টেশন ও অনন্যা ফিলিং স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে পাম্প মালিকের অসহযোগিতার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
তবে এ বিষয়ে মক্কা মদিনা ফিলিং স্টেশনের মালিক আনোয়ার খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ট্যাগ অফিসার শাকিব রায়হানও ফোন রিসিভ করেননি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন বলেন, পাম্পে তেল রয়েছে—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই কৃষকদের স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বাস্তবে তেল সরবরাহ না হওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় ট্যাগ অফিসারের দায়ও দেখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net